Post a job

স্বাস্থ্য এবং সুস্থতা

  1. Homepage
  2. Health
  3. স্বাস্থ্য এবং সুস্থতা
food and drinks

আমরা প্রতিনিয়ত বাচাঁর জন্য বিভিন্ন ধরনের খাদ্য ও  পানীয় পান করছি । আমাদের প্রতিদিনের এই খাদ্য আমাদের শরীর জন্য কোন কোন ক্ষেত্রে উপযোগী নাও হতে পারে । তাই আমরা প্রতিদিন যা খাই তা আমাদের জন্য কতটুকু উপকারী তা ভেবে আমাদেরকে খেতে হবে। তাহলে আমরা এই খাদ্য থেকে দেহের উপযোগী উপযোগ পাবো ।

আমাদের প্রতিদিনের খাদ্য অবশ্যই সুষম ও পুষ্ঠিকর হতে হবে । কোন কোন খাবারে কোন ধরনের পুষ্ঠি গুন রয়েছে তা আমাদেরকে অবশ্যই জানতে হবে। আমরা অনেক ক্ষেত্রে অধিক দাম দিয়ে খাবার খাই কিন্তু বাস্তবে সেগুলোতে কোন পুষ্ঠিগুন থাকে না এমনকি আমাদের শরীরের জন্য মারাত্নক ক্ষতিকর । তাই অধিক দামী হলে সেই খাবার পুষ্ঠিগুন সমৃদ্ধ হয় না । আমার দেখা যায় খুবই কম দামী শাক- সবজি ও বিভিন্ন ধরনের পাতা- লতা আমাদের জন্য খুবই পুষ্ঠিকর । তাই বলা যায় আমরা যাই খাই তার পুষ্ঠিগুন সম্পর্কে জেনে আমরা খাবার চেষ্ঠা করবো ।

আবার সবার জন্য সকল ধরনের খাবার উপযোগী না হতে পারে । প্রত্যেক মানুষের রুচি, অভ্যাস, রোগ ইত্যাদি বিবেচনা করে তাকে খাবার খেতে হবে । খাবার আবার বয়স , সময় বিবেচনা করে খেতে হয় । সকল বয়সে সকল ধরনের খাবার খাওয়া যায় । সকাল, দুপুর এবং রাত্রে খাবারে পার্থক্য থাকতে হবে । শীত কাল, গরম কাল, রমজানের ইফতার ও সেহরী ভেদে খাবারে পার্থক্য হতে পারে । মানুষের বয়স ভেদে খাবারের পার্থক্য থাকবে ।

নিম্নে কিশোর – কিশোরীদের খাবারের একটি তালিকা প্রদান করা হলো :

সকালের নাস্তা

রুটি, সবজি, ডিম,ভাজি, দুধ বা দুধের তৈরি খাবার, দেশি মৌসুমী ফল।

টিফিন

রুটি, ডিম, হালুয়া (বুট, গাঁজর, পেঁপে, কাঁঠালের বীচি, সুজি-র তৈরি), মৌসুমী ফল যেমন কলা, কমলা, পেয়ারা, আম ইত্যাদি থাকতে হবে।

দুপুরের খাবার

ভাত, মাংস বা মাছ যেমন – ছোট মাছ, সামুদ্রিক মাছ, কলিজা, ডাল, ভর্তা, সবুজ শাক ও রঙ্গিন সবজি যেমন – লালশাক, পালংশাক, পুঁইশাক, সজনে শাক বা ডাঁটা, মিষ্টি কুমড়া, গাঁজর, পেঁপে, টমেটো, শিম,শশা,  কপি, বরবটি বিভিন্ন ধরণের বীচি ইত্যাদি।

বিকালের নাস্তা

ঘরে তৈরি আলু বা চিকেন চপ, ডালের বড়া, বেগুনি. সবজি. পাকুড়া, ছোলা, ভুনা খই , মুড়ি, চিড়া, দই, যে কোন ধরনের দেশী ফল ইত্যাদি

 

 

রাতের খাবার

ভাত, রুটি, ডাল, মাছ, মাংস, সবজি, দু্ধ, দই ইত্যাদি ।

এছাড়া পুষ্ঠিকর খাবার গ্রহণের পাশাপাশি সুস্বাস্থ্যের জন্য প্রতিদিন ছেলে –মেয়েদের  কে প্রচুর পরিমান নিরাপদ পানি পান করা এবং সেই সাথে নিয়মিত ব্যায়াম , পরিষ্কার-পরিছন্ন থাকা, বিশ্রাম এবং খেলাধুলা করার সুযোগ দিতে হবে ।

লক্ষনীয় বিষয় সমুহ :

১. লাল আটা, লাল চাল রান্না করে খাওয়া যেতে পারে । এতে বেশি পরিমানে আমিষ, আঁশ , চর্বি, খনিজ ও ভিটামিন পাওয়া যায় ।

২. কোন অবস্থায় ভাতের মাড় ফেলা উচিত নয় ।

৩. মাছ, মাংস, ডিম, ডাল জাতীয় খাবার প্রতিদিন খেতে হবে । সামুদ্রিক মাছ খাওয়ার জন্য উৎসাহিত করতে হবে ।

৪. প্রতিদিন ২/৩ ধরনের মেৌসুমী ও দেশীয় ফল খেতে হবে । বিশেষ করে যে সকল ফলে ভিটামিন সি এবং ভিটামিন এ রয়েছে ।

৫. প্রতিদিন কমপক্ষে ৩০০ গ্রাম শাক- সবজি খেতে হবে

৬. চর্বি বা ননী যুক্ত এক গ্লাস দুধ প্রতিদিন খেতে হবে, যা শরীরে ক্যালসিয়ামের চাহিদা পূরণ করবে । সুস্থ                                           দাঁত ও হাড়ের জন্য ক্যালসিয়াম প্রয়োজন ।

৭. বাড়তি লবন ও সোডিয়াম যুক্ত খাবার যেমন ইলিশ, শুঁটকি,চীজ, পনির. টেবিল সল্ট, আচাঁর, কেচাপ, চিপস, সয়াসস, ওয়েফার, মসলা ও নোনতা বিস্কুট কম খেতে হবে ।

৮. প্রতিদিনের খাবারে জনপ্রতি ৩০ গ্রাম তেল গ্রহণ করতে হবে । এক্ষেত্রে ওমেগা-৩ এবং ওমেগা-৬ সমৃদ্ধ তেল খেতে উৎসাহিত করতে হবে ।

৯. চিনি পরিমিত খেতে হবে । প্রাকৃতিক ভাবে মিষ্টি ফল ও মধু খেতে হবে ।

১০. কাঁচা ফল-মুল, শাক- সবজি ইত্যাদি খাওয়ার পূর্বে কিছুক্ষণ ভিজে ও ভাল করে ধুয়ে খেতে হবে ।

১১. খাওয়ার পূর্বে অবশ্যই হাত, পানির গ্লাস, চামচ, বাটি , প্লেট ইত্যাদি ভালভাবে সাবান দিয়ে ধুয়ে পরিষ্কার করে নিতে হবে ।  

গ্রহণ করতে হবে

১. প্রতিদিন ৮ থেকে ১০ গ্লাস পানি পান করতে হবে ।

২. ডাবের পানি এবং তাজা ফলের জুন খাওয়া যেতে পারে

৩. প্রতিদিন খেলাধুল ও হাঁটা – চলা করতে হবে ।

৪. ওজন নিয়ন্ত্রনে রাখতে হবে ।

৫. হালকা সিদ্ধ খাবারে পুষ্ঠি বেমি থাকে বলে হালকা সিদ্ধ খাবার খেতে হবে । কিন্তু ডিম ও মাংস ভাল করে সিদ্ধ করে খেতে হবে ।

৬. রুটিন মাফিক ডাক্তারি পরীক্ষা করাতে হবে

৭. চা ও কফি কম খেতে হবে। গ্রীণ টি স্বাস্থের জন্য উপকারী

৮.  সিড়িঁ থাকলে ওঠা নামার অভ্যাস করতে হবে

বর্জন করতে হবে

১. বেকারী খাবার- কেক, জেম, জেলী, টফি, ক্যান্ডি. চকোলেট ও মিষ্টি জাতীয় খাবার ।

২. জাঙ্ক ফুড যেমন ভাজা বা ফ্রাই বার্গার, ফাষ্টফুড, গ্রীল এবং কোমল পানীয় বর্জন করতে হবে ।

৩. খোলা, অপরিষ্কার ও রাস্তার পাশের খাবার পরিহার করতে হবে ৪

৪. অতিরিক্ত সিদ্ধ বা অধিক তাপে রান্না খাদ্য পরিহার করতে হবে

৫. খাওয়া শেষে শুয়ে পড়ার অভ্যাস ত্যাগ করতে হবে বিশেষ করে রাত্রে খাবার খেয়ে সাথে সাথে শুতে যাওয়া যাবে না ।

nasir22g

Author Since:  April 11, 2020

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.