Post a job

লকডাউন শিথিল করায় কোভিড-১৯ বা করোনা ভাইরাস থেকে বাঁচার উপায় কি?

লকডাউন শিথিল করায় কোভিড-১৯ বা করোনা ভাইরাস থেকে বাঁচার উপায় কি?

করোনা ভাইরাস বা কোভিড-১৯ থেকে বেঁচে থাকার সবচেয়ে বড় উপায় হিসাবে বিশেষজ্ঞরা বলেছেন সামাজিক দুরত্ব বজায় থাকা। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে পারলে কোভিড-১৯ বা করোনা ভাইরাস থেকে বাঁচতে পারবেন অনেকাংশে । সামাজিক দুরত্ব হচ্ছে এক জন ব্যাক্তি থেকে আরেক জন ব্যাক্তি শারীরিকভাবে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা । দূরত্ব এক জন থেকে অন্যজন কমপক্ষে ১ মিটার থাকতে হবে ।

বর্তমানে পৃথিবীর অনেক দেশে লকডাউন শিথিল করা হচ্ছে । এই পরিস্থিতিতে মানুষের পক্ষে কতটা সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখা সম্ভব হবে । বিশেষ করে যে দেশগুলো ঘনবসতিপূন। বিশেষ করে বাংলাদেশে যে ভাবে গার্মেন্টস, দোকান, সুপার মার্কেট এবং অফিস- আদালত খুলে দেওয়া হচ্ছে, সেই ক্ষেত্রে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা খুবই কঠিন হবে ।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব বা সংক্রমণ থেকে বাঁচতে হলে কিছু অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।

এর মধ্যে অন্যতম অভ্যাস হচ্ছে, নিয়মিত সাবান-পানি দিয়ে হাত ধোয়া। কারণ সাবান পানি দিয়ে হাত ধোয়া হলে তা হাতে থাকা জীবাণুকে মেরে ফেলে। একই কারণে সাবান-পানি না থাকলে অ্যালকোহল সমৃদ্ধ হ্যান্ড রাব বা স্যানিটাইজার ব্যবহার করতে বলা হয়।

এরপর এর ধাপটি হচ্ছে, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা । অথ্যাৎ একজন থেকে অন্যজন ১ মিটার বা ৩ ফুট দূরত্ব বজায় রাখতে হবে । সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখলে অন্যের হাঁচি- কাঁচি থেকে যে ড্রপলেটস বাহির হয়ে জীবণু ছড়ায় তা অন্যজনকে আক্রান্ত করতে পারে না ।

এছাড়া ভিড় এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা । কারন ভিড়ের কারনে সামাজিক দূরত্ব অথ্যাৎ ১ মিটার দূরত্ব বজায় রাখা সম্ভব হয় না । এতে করে একে অন্যের সংস্পর্শ বা কাছাকাছি চলে আসার সম্ভবনা থাকে । তাই ভিড়ের কারো করোনা ভাইরাস থাকলে অন্যরাও আক্রান্ত হতে পারে।

আমাদেরকে আরো কিছু বিষয়ের প্রতি লক্ষ্য রাখতে হবে, বিশেষ করে হাঁশি – কাঁশির আদব মেনে চলতে হবে । হাঁশি- কাঁশি দেওয়ার সময় অবশ্যই মুখে রুমাল, টিস্যু অথবা কনুই দিয়ে মুখ ঢাকতে হবে । হাঁশি- কাঁশির পর টিস্যু ফেলে দিয়ে সাবান পানি দিয়ে হাত- মুখ ধৌত করলে কোভিড-১৯ থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব । বিশেষ করে হাঁশি – কাঁশির আদব রক্ষা করলে অনকাংশে করোনা ভাইরাস থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব ।

বাংলাদেশ সহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে লকডাউন শিথিল করায় এই পরিস্থিতিতে আমাদের কি কি পদক্ষেপ সমূহ গ্রহণ করা যায়, তা নিম্নে আলোচনা করা হলো।

. মাষ্ক যথাযথভাবে ব্যবহার করা:

জনসমাগমস্থল বা ভিড়ের মধ্যে যেতে হলে অবশ্যই আপনাকে মাষ্ক পরতে হবে । মাষ্কের কোন বিকল্প নেই । এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে উত্তম হচ্ছে এন-৯৫ মাষ্ক। বিশেষ করে চিকিৎসকগন যখন কোন কোভিড-১৯ রোগীর চিকিৎসা করেন তখন তাকে এন- ৯৫ মাষ্ক ব্যবহার করতে হবে। যাদের কাছে এন-৯৫ মাষ্ক নেই তিনি এক সাথে দুই বা তিনটি সার্জিক্যাল মাষ্ক ব্যবহার করতে পারেন। এছাড়া তিন স্তর বিশিষ্ট কাপড় দিয়ে মাষ্ক তৈরি করে তাও ব্যবহার করা যেতে পারে। মাষ্ক ব্যবহার করার ক্ষেত্রে অবশ্যই যেন আপনার নাক বা ধুতনী খোলা না থাকে, সেই দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। নাক বা ধুতনী খোলা থাকলে মাষ্ক ব্যবহার করে কোন উপকার পাওয়া যাবে না । মাষ্কের ভিতর যেন বাতাস ঢুকতে না পারে, সেই দিকে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে।

মাষ্ক একবার ব্যবহার করে তা ফেলে দেওয়া ভাল । যাদের পক্ষে বারবার নতুন মাষ্ক ব্যবহার করা সম্ভব হচ্ছে না, তাদেরকে সাবান পানি দিয়ে দৈনিক মাষ্কটি ধৌত করতে হবে এবং অতি দ্রুত সেটিকে পরিবর্তন করতে হবে । 

২. গন্তব্যের শুরু থেকে শেষ পযন্ত যতবার সম্ভব হাত ধোয়া:

ঘর থেকে বের হলে যতটা সম্ভব সাবধান থাকতে হবে, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা হচ্ছে সবচেয়ে উত্তম উপায়। এটা সম্ভব না হলে আপনাকে যতবার সম্ভব সাবান পানি দিয়ে হাত ধৌত করতে হবে। বর্তমানে বিভিন্ন অফিস, দোকান, গার্মেন্টস সহ অনেক জায়গায় সাবান দিয়ে হাত ধৌত করার ব্যবস্থা রয়েছে, এগুলো ব্যবহার করে আপনাকে অবশ্যই সাবান পানি দিয়ে হাত ধৌত করতে হবে ।

হাত ধৌত না করে কোন ভাবে নাক, মুখ ও চোখে হাত দিবেন না ।

৩. সাবান দিয়ে গোসল করা:

শুধু হাত, মুখ ও কাপড় ধৌত করলে হবে না। করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে হলে, বাইর থেকে আসার পর পুরো শরীর সাবান মেখে গোসল করতে হবে । গোসলের পূর্বে পরিবারের অন্য সদস্যের সংস্পর্শে আসা যাবে না।

পরিবারের অসুস্থ ও বয়ষ্ক ব্যক্তিদের থেকে ৩ ফুট দূরত্ব বজায় রাখতে হবে।

৪. পরিধানকৃত পোশাক সাবান দিয়ে ধৌত করা:

বাইর থেকে বাসায় আসলে আপনার পরিহিত পোশাকটি সাবান পানিতে অবশ্যই আধা ঘন্টা ভিজিয়ে রাখুন । তারপর ধৌত করতে হবে। এমনকি আপনার পরিহিত জুতা জোড়া অবশ্যই সাবান পানি দিয়ে ধৌত করে নিন। জুতার উপরে- নীচে সবটুকু আপনাকে ধৌত করতে হবে। জুতা ঘরের বাহিরে রাখূন ।তবে মুশতাক হোসেন বলছেন, বাইরে বের হওয়ার সময় হাতে গ্লাভস বা পিপিই (ব্যক্তিগত সুরক্ষা পোশাক) পরাটা জরুরী নয়। কারণ গ্লাভস পরলে সেটা যদি পরিবর্তন করে আরেকটি পরা না যায়, তাহলে সেটি আপনাকে সুরক্ষা দিবে না ।

এর চেয়ে সাবান পানি দিয়ে হাত ধোয়াটা অনেক বেশি নিরাপদ বলে মত দেন মুশতাক হোসেন। একই কথা তিনি বলেছেন পিপিই বা ব্যক্তিগত সুরক্ষা পোশাক পরার ক্ষেত্রেও।

শাহনীলা ফেরদৌস বলেন, যেহেতু চোখের মধ্য দিয়েও করোনাভাইরাস শরীরে প্রবেশ করে, তাই এটি ঠেকাতে সতর্কতার অংশ হিসেবে জিরো পাওয়ারের গ্লাস বা চশমা পরতে হবে। এতে করে চোখ সরাসরি ড্রপলেটস থেকে দূরে থাকবে বলে জানান তিনি।

তার মতে, যাদেরকে কোভিড-১৯ আক্রান্ত ব্যক্তি পরিবহন, মরদেহ সৎকার কিংবা চিকিৎসা দেয়ার মতো কাজ করতে হয় না, তাদের পিপিই বা ব্যক্তিগত সুরক্ষা পোশাক পরার দরকার নেই।

অবশেষে বলা যায়, করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে হলে আমাদেরকে ব্যাক্তিগত ভাবে সচেতন হতে হবে। ব্যাক্তিগত সচেতনতার পাশাপাশি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার যে গাইড লাইন রয়েছে আমাদেরকে তা অনুসরন করতে হবে, তাহলে হয়তো আমাদের পক্ষে করোনাভাইরাস থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব হতে পারে।

nasir22g

Author Since:  April 11, 2020

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.