Post a job

উপসর্গ ছাড়াই কি মানুষ কোভিড-১৯ বা করোনায় আক্রান্ত হতে পারে ?

covid-19 bangladesh

আল্লাহ রব্বুল আলীম প্রত্যেক মানুষকে সৃষ্টি করার সময় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দিয়ে সৃষ্টি করেছেন । তাই দেখা যায় মানুষ প্রতিনিয়ম বাতাস, পানি এবং পরিবেশ থেকে যে পরিমান জীবানু তার দেহে ঢুকাছে কিন্তু সেই পরিমান সেই অসুস্থ হচ্ছে না । আপনি যদি শুধু অনুবীক্ষণ যন্ত্র দিয়ে আমাদের পরিবেশের দিকে তাকান দেখবেন কি পরিমান জীবানু শুধু বাতাসে ঘুরে বেড়াচ্ছে, এভাবে পানিতে একই অবস্থা । সহজ করে বললে আপনি সাবান ছাড়া হাত ধৌত করলে দেখবেন হাত ধৌত করা পানি পরিষ্কার অথ্যাৎ হাতে কোন জীবানু নেই আবার সাবান দিয়ে হাত ধৌত করে দেখবেন হাত থেকে প্রচুর পরিমান ময়লা বাহির হয়েছে । এভাবে আপনি যদি সাধারণ পানিতে তাকান দেখবেন পানি পরিষ্কার কিন্তু আপনি সিদ্ধ করেলে বা ফিটকিরি দিলে দেখবেন পানির কি পরিমান ময়লা নীচে জমা হয়েছে । আমরা প্রতিনিয়ত এই পরিবেশে বসবাস করছি । এই পরিবেশে কেহু বসবাস করে নিয়মিত সুস্থ থাকছে আবার কেহু অল্পতে অসুস্থ হয়ে পড়ছে । কারন হচ্ছে যার শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি তিনি সুস্থ আছেন আবার যার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম তিনি অসুস্থ হয়ে যাচ্ছেন ।

কোভিড -১৯ বা করোনার ক্ষেত্রে আমাদের মধ্যে যার শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি তার লক্ষণ প্রকাশ পাচ্ছে না । যার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম তার লক্ষণ প্রকাশ পায় । একই পরিবারে দেখা যায় কাহারো করোনার লক্ষণ প্রকাশ পাওয়ার তার পরীক্ষা করার প্রয়োজন মনে করা হয় । কিন্তু পরিবারের বাকী সদস্যদের করোনার কোন লক্ষণ না থাকার কারনে তারা করোনা পরীক্ষার প্রয়োজন মনে করে না । পরিবারের অন্য সদস্যরা মনে করে তার করোনার যেহেতু কোন লক্ষণ নেই অতএব তার করোনা হয় নাই ।

কিন্তু আল্লাহ পাকের অশেষ রহমতের কারনে আমাদের শরীরের প্রতিটি স্তরে স্তরে রোগ প্রতিরোধ  করার জন্য আল্লাহ পাক বিভিন্ন পদ্ধতি দিয়েছেন ।যেমন আপনার চোখের পানি হচ্ছে এক ধরনের এক ধরনের রোগ প্রতিরোধক আবার আপনার মুখের লালা, নাকের পানি  । আপনার গলায় রয়েছে জালের মত চাকন যন্ত্র যেটি প্রতিনিয়ত আপনার শরীরে কোন জীবানু ঢুকলে সেটিকে ছেঁকে শরীরের ভিতরে ঢুকতে দিচ্ছে না । এগুলোকে বলায় সিলিয়া । গলা থেকে কোন জীবানু আপনার ফুসফুসে চলে গেলে ফুসফুস ও সেটিকে প্রতিরোধ করার চেষ্ঠা করে । কিন্তু আমরা যদি বেশি পরিমান এলকোহেল, অতিরিক্ত গরম পানি বা ভাঁপ  বেশি বেশি গ্রহণ করি তাহলে এই রোগ প্রতিরোধক সিলিয়াম গুলো নষ্ঠ বা দূর্বল হয়ে যেতে পারে, এই জন্য আমাদেরকে সর্তক থাকতে হবে । রোগ প্রতিরোধক এই ক্ষমতাকে বলা হয় ইমেয়েনিটি ।

এখন আসুন কাহারো শরীরে করোনার জীবানু ঢুকলে তার যদি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি থাকে তাহলে তার হয়তো লক্ষণগুলো ভাল ভাবে প্রকাশ পাবে না । হয়তো শরীর ম্যাচ ম্যাচ করতে পারে, ব্যাথা হতে পারে, হালকা জ্বর ভাব থাকলেও তার তাপমাত্রা প্রকাশ না পেতে পারে । আর যাদের মাঝারি আকারে আক্রান্ত হয় তার জ্বর, সর্দি অথবা শ্বাসকষ্ট হতে পারে । হাসপাতাল না গিয়ে ঘরে চিকিৎসা নিলে সেই ভাল হয়ে যেতে পারে । হয়তো অনেকে টেরও পাচ্ছে না তার কোভিড-১৯ হয়েছে । কিন্তু যারা মারাত্নক আক্রান্ত হন, তাদের ক্ষেত্রে দেখা যায় যে করোনা গলা থেকে তার ফুসফুসে গিয়ে ফুসফুসের বায়ু থলির বায়ু বেহির করে দিচ্ছে, পানি বাহির করে দিচ্ছে, গ্যাস ক্ষেত্রে বাধা দিচ্ছে, রক্ত নালির পানি বাহির হয়ে যাচ্ছে , এতে তার ফুসফুস, কিডনি সহ অন্যান্য অংগ গুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে তাকে আইসিইউ, ভ্যান্টেলেটর দিতে হচ্ছে । এক্ষেত্রে বুঝায় যায় বিশেষ করে যাদের পূর্ব থেকে ডায়েবেটিস বা অসুস্থ থাকার কারনে শরীরে এই অংগ গুলো দুর্বল তাদের জন্য এই কোভিড-১৯ বা করোনা ভাইরাসটি কত মারাত্নক ।

যার করোনা উপসর্গ প্রকাশ পায় না তিনি কি অন্যদের জন্য মারাত্নক ?

যার কোভিড- ১৯  বা করোনার লক্ষণ প্রকাশ পায় না তিনি কি সমাজ, পরিবার বা অন্য ব্যক্তিদের জন্য মারাত্নক কিনা ? অবশ্যই তিনি মারাত্নক । তার লক্ষণ প্রকাম পায়নি কিন্তু তিনি করোনার জীবানু নিয়ে  প্রতিদিন অন্য ব্যক্তিদের সাথে মিশে অন্যদেরকে আক্রন্ত করে যাচ্ছেন । করোনার প্রকাশের সময় কাল হচ্ছে ১ থেকে ১৪ দিন পর্যন্ত । আক্রান্ত ব্যাক্তির করোনার লক্ষণ প্রকাশ পাওয়ার পূর্বের ৪৮ ঘন্টা খুবই মারাত্নক । উপসর্গ প্রকাশ পাওয়ার সময়কে বলে সিনটোমেটিক আর উপসর্গ প্রকাশের পূর্বের ৪৮ ঘন্টাকে বলে প্রি- সিনটোমেটিক । বিশেষ করে প্রি – সিনটোমেটিক সময় আক্রান্ত ব্যক্তি অধিকাংশ ব্যক্তির মধ্যে এই রোগটি ছড়িয়ে দেয় ।  যার কোভিড- ১৯ বা করোনা লক্ষণ প্রকাশ পায় না তিনি তো তার অজান্তে সবার সাথে মিশে সবাইকে আক্রান্ত করে দিচ্ছেন । তাই আমাদের সবাইকে ভাবতে হবে আমি ছাড়া সমাজের সকলে করোনায় আক্রান্ত । তাহলে আপনি কাহারো সাথে মিশবেন না । এই জন্য আমাদের সবাইকে ঘরে থাকতে হবে , সবাইকে ঘরে রাখতে হবে , নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখতে হবে, তাহলে আমাদের এই রোগ থেকে বেঁচে থাকা সম্ভব । বিশেষ করে অসুস্থ এবং বয়ষ্ক ব্যাক্তিদেরকে নিরাপদ রাখার জন্য সকলকে চেষ্ঠা করতে হবে । আমরা আমাদের বন্ধু বান্ধুব, সহকর্মী থেকে শুরু করে সকলের সাথে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে চলতে হবে, তাহলে আমরা নিজে বাঁচতে পারবো এবং অন্যদেরকে বাঁচাতে পারবো । আল্লহ পাক আমাদের সহায় হোক সবাই সুস্থ থাকুন, আল্লাহর কাছে এই কামনা করছি ।                                  

nasir22g

Author Since:  April 11, 2020

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.